নদী সম্পর্কিত কিছু সংজ্ঞা


ভুপৃষ্ঠের উপর দিয়ে ভূমির ধাল অনুসারে প্রবাহিত যে স্বাভাবিক জলধারা বৃষ্টির জল বা তুষারগলা জলে পুষ্ট হয়ে কোন সমুদ্রে বা হ্রদে বা অন্য কোন জলাশয়ে মিলিত হয় তাকে নদী বলে ।

নদ - পুং লিঙ্গ শব্দ এবং নদী - স্ত্রী লিঙ্গ শব্দ । পুরানের লোকগাথা অনুযায়ী আমাদের দেশে বিভিন্ন জলধারাকে নদ বা নদীরুপে অভিহিত করি । যেমন - দামোদর নদ , গঙ্গা নদী ।


যে স্থান হতে নদী উৎপত্তি লাভ করে তাকে নদীর উৎস (The source of the river) বলে ।


 নদী যেখানে সমুদ্র , হ্রদ , অন্য কোন নদী বা জলাশয়ে মিলিত হয় , সেই মিলনস্থলকে নদীর মোহনা (estuary) বলে ।

 ভূমির ধাল অনুযায়ী প্রবাহিত একটি বড় নদীর সঙ্গে বহু ছোট ছোট নদী এসে মেশে । এইসব নদীকে উপনদী(tributary) বলে ।

প্রধান নদী থেকে যেসব জলধারা নিরগত হয়ে অন্যত্র  মিলিত হয় , তাদের শাখানদী (distributary) বলে ।

 যে অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রধান নদী এবং তার তার বিভিন্ন উপনদি ও শাখানদী প্রবাহিত হয় , সেই অঞ্চলকে বলা হয় প্রধান নদীর নদী অববাহিকা ।

উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর গতিপথে যে অংশের মধ্যে দিয়ে জলধারা প্রবাহিত হয় , তাকে নদী উপত্যকা বলে ।


পাশাপাশি অবস্থিত দুই বা ততোধিক নদীর মধ্যবর্তী অববাহিকা যে উচু ভূমির দ্বারা পৃথক হয় তাকে জলবিভাজিকা বলে ।

দুটি নদীর মধ্যবর্তী স্থানকে দোয়াব বলে ( দোয়াব কথাটির অর্থ দো- দুই , আব - জল ) । গঙ্গা ও যমুনা নদীর মধ্যবর্তী স্থানকে গঙ্গা -যমুনা দোয়াব বলে । শতদ্রু ,বিপাশা , ইরাবতী , চন্দ্রভাগা ও বিতস্তা নদীর মধ্যবর্তী স্থানে পাঞ্জাব ( পঞ্চ+আব ) -পাঁচটি নদীর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ।

যেসব নদী হিমবাহ বা ঝর্ণার জলে পুষ্ট , সে সব নদিতে সারাবছর জল থাকে । এইসব নদীকে নিত্যবহ নদী বলে ।

 যেসব নদী কেবলমাত্র বর্ষার জলে পুষ্ট , সে সব নদীতে সারাবছর জল থাকে না । এইসব নদীকে অনিত্যবহ নদী বলে ।

পৃথিবীব্যাপী সমুদ্রজলের ওঠানামা তেমন হয় না । তাই সমুদ্রজলের উচ্চসীমাকে সমুদ্রতল ( Base Level ) হিসাবে ধরা হয় । সমুদ্রে পতিত নদী সর্বদায় এই সমুদ্রতলের সঙ্গে সমতা রেখে তার ক্কয় কাজ করে  সমুদ্রতলকে তাই নদীর ক্ষয়সীমা  হিসাবে ঢোড়া হয় । যে সব নদী অন্য নদীতে বা হ্রদে মিলিত হয় তাদের ক্ষয়সীমা হল অপর নদীর জলের উচ্চসীমা বা হ্রদতল ।

বছরের বিভিন্ন ঋতুতে নদীজলের সরবরাহের হ্রাস বৃদ্ধিকে নদী পর্যায় বলে ।

Post a Comment

0 Comments